ঝিনাইদহ

স্কুটি চালিয়ে দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছেন গণফোরামের প্রার্থী খনিয়া খানম

ভোটের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এই স্বল্প সময়ে সবার কাছে পৌঁছাতে স্কুটার চালিয়ে ছুটে চলেছেন উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী খনিয়া খানম। ঝিনাইদহ-৪ (ঝিনাইদহ সদরের চারটি ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ) আসনের গণফোরামের প্রার্থী তিনি।

এ আসনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি শেষ দিন পর্যন্ত ভোটের লড়াই চালিয়ে যেতে চান খনিয়া। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

শনিবার দুপুরে খনিয়া ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বানুড়িয়া গ্রামে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। অন্য দলের প্রার্থীদের প্রচারণায় পিকআপ, মাইকিং ও গ্রামপর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক শক্তি থাকলেও গুটি কয়েক কর্মী নিয়ে নিজের স্কুটি চালিয়ে ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন তিনি। স্কুটি চালিয়ে একজন নারী প্রার্থী ভোট চাইতে এসেছেন জেনে গ্রামের লোকজনই উৎসুক হয়ে তাঁর কাছে আসছেন। শুনছেন তাঁর দলীয় ইশতেহার ও তাঁর পরিকল্পনা।

বানুড়িয়া গ্রামের আবদুল খালেক নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘অন্য দলের পক্ষে প্রতিদিন ইজিবাইক ও পিকআপ ভ্যানে করে প্রচারের মাইক আসছে। দলের লোকজনও তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে আসছেন। কেউবা গ্রামের চায়ের দোকানে ভোটারদের চা খাওয়াচ্ছেন। আজকে দেখলাম, আমাদের গ্রামে নিজেই স্কুটি চালিয়ে ভোট চাইতে এসেছেন এক নারী। তাই দেখতে এলাম। এই আসনে আজ পর্যন্ত কখনো কোনো নারী এমপি নির্বাচিত হননি। আমি কোনো দলের সাথে নাই। ওনার সাথে কথা বলে আমার ভালো লেগেছে। ওনার প্রতিশ্রুতির ধরন অন্যদের থেকে আলাদা।’

এই গ্রামের সাধনা রানী নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘খনিয়া খানম নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস দিচ্ছেন। নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলছেন। একজন নারী হিসেবে তাঁর কথায় আমি উজ্জীবিত হয়েছি। তাঁকে দেখে আমার মেয়েকে বলছি, দেখো মেয়েরা এমপি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছে।’

খনিয়া খানম নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ২১ লাখ ৫২ হাজার ৯২৩ টাকা। ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ৩৫ হাজার ৪১০ টাকা। উপহারের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের একটি স্কুটি রয়েছে খনিয়ার। ডিপ্লোমা ইন আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারির (ডিএএমএস) ডিগ্রি অর্জন করা এই প্রার্থী বর্তমানে একজন নারী উদ্যোক্তা।

খনিয়া খানম বলেন, ‘আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। নারীদের জন্য আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। নিজের এলাকার উন্নয়নেও আমার রয়েছে অনেক স্বপ্ন। গণফোরাম আমাকে বিশ্বাস করে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়েছে। তাই আমি প্রার্থী হয়েছি। মানুষের কাছে যাচ্ছি। ভোট চাচ্ছি।’

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে গণফোরামের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি এই আসনে মূলত নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছি। ভোটের ফলাফল যা–ই হোক, আমি মনে করব আমি বিজয়ী। লড়ায়ের শেষ মিনিট পর্যন্ত আমি মাঠে আছি। এই এলাকার একটি প্রধান সমস্যা মাদক। আমি মাদকের বিরুদ্ধে ভোটারদের সচেতন করে প্রচারণা চালাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button