সারাদেশ

জামিন পেয়েও মেলেনি মুক্তি, কারাগারে আ.লীগ নেতার মৃ’ত্যু

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিন পেয়েও কারামুক্ত হতে না পারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা নুর ইসলাম মারা গেছেন। জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর দুই দিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসমক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী অভিযোগ করে বলেছেন, নুর ইসলামের জামিনের পর বিনা মামলায় আটকে রাখা হয়।

নুর ইসলাম মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ‘মাতৃকা’ নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে নুর ইসলামকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘নুর ইসলাম নামে এক কারাবন্দি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তবে নুর ইসলামের আইনজীবী শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের জামিন আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে অন্যায্যভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট আদালত থেকে নুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয় এবং সেদিন বিকেলেই জামিনের লিখিত আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী সেদিনই তার মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিরসরাই থানা পুলিশ তাকে অন্য একটি মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানোর’ (শোন-অ্যারেস্ট) আবেদন করায় তাকে ছাড়া হয়নি। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল।

আইনজীবী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘২ সেপ্টেম্বর যখন নুর ইসলাম মারা যান, তখন তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আটকাদেশ বা মামলা ছিল না। জামিন পাওয়ার পর কোনো আদেশ ছাড়া তাকে বন্দি রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’

জামিনের পর কেন তাকে আটকে রাখা হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আওলাদ হোসেন বলেন, ‘নুর ইসলামকে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আদালত কী আদেশ দিয়েছেন, তা আমার জানা নেই।’

অন্যদিকে বিনা পরোয়ানায় আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ ছাড়া কোনো বন্দিকে জামিনের পর কারাগারে রাখার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় আইনি আদেশ ছিল।’

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে মিরসরাই থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন নুর ইসলাম। পরিবারের সদস্যরা তার মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারাগার থেকেই লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button