সারাদেশ

ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৮ দিন পরে মামলা

বরিশালের মুলাদীতে এক বিধবা বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই বৃদ্ধা বাদী হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করেন। উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের হালিম ব্যাপারী ও মাসুদ খন্দকার নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও টাকা দাবির অভিযোগ করা হয়। গত ২২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার আট দিন পরে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

হালিম ব্যাপারী (৬০) উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত জব্বার ব্যাপারীর ছেলে এবং মাসুদ খন্দকার (৪০) একই গ্রামের মৃত সুয়াজেল খন্দকারের ছেলে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও টাকা দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলার কপি থানায় পৌঁছে দিয়েছেন। তবে আদালতের আদেশ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

মামলার সূত্রে জানা যায়, হালিম ব্যাপারী ওই বৃদ্ধার বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার চান নারী। এতে হালিম ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। গত ২২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে হালিম ব্যাপারী ও মাসুদ খন্দকার ওই বৃদ্ধার বাড়িতে যান। তাঁরা দুজনে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করেন।

পরবর্তীকালে হালিম ব্যাপারী ও মাসুদ খন্দকার ওই বৃদ্ধাকে ভিডিও দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। ওই নারী টাকা দিতে পারবেন না জানিয়ে দিলে তাঁরা ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘ভাইরাল’ করার হুমকি দেন। নিজের মানসম্মান বাঁচাতে বৃদ্ধা স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে বিচার পেতে ব্যর্থ হয়ে গতকাল বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেন।

এ ব্যাপারে হালিম ব্যাপারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘মাসুদ খন্দকার বৃদ্ধার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিওটি বেশ কয়েকজনের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে টাকা দাবির বিষয়টি আমার জানা নাই।’

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, বিধবা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button