কালীগঞ্জ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাবাকে মারধর করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাবাকে মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. আব্দুল মান্নান (৫০)। তিনি উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল মান্নানের মোছা. এনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার খয়েরতলা গ্রামের মো. হৃদয় (২৬) বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত হৃদয় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং কিশোরীকে অপহরণের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরে রোববার বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে এনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাড়ি থেকে পাকা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হৃদয় অজ্ঞাতনামা আরও তিন সহযোগীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে এসে তারা ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করেন এবং তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির বাবা ঘটনাটি দেখে এগিয়ে এসে বাধা দেন। তখন অভিযুক্ত হৃদয়ের সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে হৃদয়ও মারধরে অংশ নেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি বাটন ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, পরে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বাবার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলেও ততক্ষণে তারা পালিয়ে যান। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ওই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আমার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশের সহযোগিতা চাই।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button