সারাদেশ

স্বামী হত্যা মামলার বাদী থেকে আসামি হলেন স্ত্রী! অতঃপর…

Advertisements

কক্সবাজারের পেকুয়ায় আলোচিত জসিম উদ্দিন হত্যার পর মামলা করেছিলেন তার স্ত্রী। কাঁদতে কাঁদতে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছিলেন— চোখের সামনেই তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাসের তদন্তে পুলিশের সামনে উলটো চিত্র উঠে আসে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মামলায় বাদী সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। কক্সবাজার শহরের পিটি স্কুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্ক আড়াল করতেই সাজানো হয়েছিল পুরো ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ আগস্ট রাতে শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া সেগুন বাগিচা এলাকায় নিজ ঘরে খুন হন জসিম। পরদিন সকালে পুলিশ তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনার পর সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি রাতে ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি নিজে পাশের ঘরে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলে দাবি করেন।

প্রাথমিকভাবে মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকজন প্রতিবেশীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে তদন্তের শুরু থেকেই ঘটনাস্থলের আলামত, ঘরের ভেতরের অবস্থা ও বাদীর বয়ানের মধ্যে অসংগতি লক্ষ্য করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

পুলিশ বলছে, ঘরের দরজা-জানালার বাইরে থেকে জোরপূর্বক প্রবেশের সুস্পষ্ট কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি নিয়েও বাদীর বক্তব্যে গরমিল ছিল। তদন্তের একপর্যায়ে মোবাইল ফোনের কললিস্ট, প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয়দের গোপন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, সেলিনার সঙ্গে একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

Advertisements

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে জসিম উদ্দিন ওই সম্পর্কের বিষয়টি টের পান বা আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। এরপরই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়—এমন ধারণা জোরালো হয় তদন্তে।

তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুনয়ন বড়ুয়া বলেন, প্রথম মামলার বয়ান ও বাস্তব আলামতের সঙ্গে মিল না পাওয়ায় আমরা বিকল্প দিকগুলো যাচাই করি।

প্রযুক্তিগত তথ্য ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। ঘটনার প্রায় এক মাস সাত দিন পর নিহতের বাবা মো. নুর আহমদ বাদী হয়ে নতুন একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি এবং তার পরকীয়া সঙ্গী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেন।

নতুন মামলার তদন্তে আগের অভিযোগের অসংগতি, সাক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য একত্র করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়—প্রথম মামলাটি ছিল বিভ্রান্তিমূলক।

পুলিশ জানায়, নতুন মামলার পর থেকে সেলিনা আক্তার আত্মগোপনে ছিলেন।

পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন