ঈদের পর প্রশাসনে বড় রদবদল আসছে

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর প্রশাসনের স্থবিরতা কাটাতে তারা ঢালাওভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। যাদের বড় অংশ এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দপ্তরপ্রধান হিসেবে কর্মরত। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর চুক্তিভিত্তিক অনেক কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তার মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় অনেকে আবার নিজেই পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়। সে সময় শেখ আব্দুর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তা গৃহীত হয়নি। একই দিন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। একদিন পর তিনিও চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন করেন। ওইদিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। শেখ আব্দুর রশিদ ও সিরাজ উদ্দিন মিয়া দুজনই অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত ছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকে পলাতক থাকায় সংকট উত্তরণে চুক্তিভিত্তিকের পাশাপাশি অনেককে সাময়িক নিয়োগও দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তারমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। গতকাল রোববার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। দেশের আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাময়িক নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বড় অংশের নিয়োগ বাতিল করে তাদের জায়গায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।
সরকারি কর্মচারী বাতায়নের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার অন্তত ১৮ কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বাদে বাকি সবার নিয়োগ হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। অন্তর্বর্তী আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, পরিকল্পনা কমিশনের দুই সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. মোখলেস উর রহমান ও এমএ আকমল হোসেন আজাদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের।
এছাড়া রয়েছেন ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ, পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত (সচিব) মো. মাহফুজুল হক, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এজেএম সালাউদ্দিন নাগরী, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এসএম মঈন উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।