কোটা পদ্ধতি ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির হাতিয়ার: প্রধান উপদেষ্টা

মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিনি একটি গণতান্ত্রিক মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্টে গুলিবিদ্ধ আহদের চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি এবং তৎকালীন সরকার হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া না হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশে ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়। ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণরা ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। ভালো ফলাফল করেও চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি তার চাকরি হয়নি।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে বৈষ্যমমূলক কোটা পদ্ধতি। যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটি হাতিয়ার। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তরুণ সমাজ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদ শাসকের টনক নড়েনি। দীর্ঘ এই সময় প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাবাদি শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল। যারা আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে। স্বৈরাচারের পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে, কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক মন্ডলেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এ দেশের গরিব মেহনতি মানুষের পয়সা লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তুলে। সীমাহীন দুর্নীর কবলে পড়ে অথূনীতি ভেঙে পড়ে। এই দেড়যুগে প্রতিপি ন্যায্যদাবি, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের পিটিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছে তাদেরকে গ্রেফতার অথবা গুম করা হয়েছে।