আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে সৌদিকে কি পরমাণু অস্ত্র দেবে পাকিস্তান

Advertisements

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং অঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেছে সৌদি আরব। আজ বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত কয়েকটি আরব ও ইসলামি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরামর্শমূলক বৈঠকের ফাঁকে তাঁর অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন। এতে অংশ নেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইসহাক দার, তুরস্কের হাকান ফিদান এবং মিশরের বদর আবদেলাত্তি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ‘অঞ্চলে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে পরামর্শ চালিয়ে যাওয়া ও যৌথ প্রচেষ্টা সমন্বয়ের গুরুত্ব’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান কয়েকটি আরব দেশে ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ’ বলে উল্লেখিত লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো নিন্দা করেছে।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

কানাডার সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক সৌদি বিশ্লেষক বলেন, সৌদি আরব যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয়, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে তার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হবে এবং দক্ষিণ এশীয় দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডরের ওপর নির্ভর করতে পারে রিয়াদ।

সৌদি ভূরাজনৈতিক গবেষক সালমান আল-আনসারি বলেন, ‘সৌদিরা যদি পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত নেয়…তবে ইরানই সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আক্ষরিক অর্থেই বলা যায়, সৌদি আরবের ওপর একটি পারমাণবিক ছাতা রয়েছে।’

Advertisements

গত বছর কাতারের দোহায় হামাসের আলোচকদের ওপর ইসরায়েলি হামলার পর সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটির কেন্দ্রে রয়েছে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো একটি নীতি, যেখানে যৌথ প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। দুই দেশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে কোনো এক দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।’ তাত্ত্বিকভাবে এর অর্থ, সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদি আক্রমণের মুখে পড়লে পাকিস্তান সহায়তা দিতে বাধ্য হতে পারে।

ইরান ইতিমধ্যে সৌদি আরবের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে সৌদি তেলের রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উপসাগর থেকে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে সরবরাহ চালিয়ে যেতে পারছে। যুদ্ধের আগে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি করত।

সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ইরানি হামলা তীব্র হওয়ায় রিয়াদ কতটা সমর্থন দেবে বা সরাসরি হামলায় অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তি সংঘাতটিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি করেছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চলতি মাসের শুরুতে জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় সরাসরি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি তুলেছিলেন। দার বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে এবং আমি ইরানকে তা জানিয়েছি।’ তিনি জানান, জবাবে তেহরান আশ্বাস চেয়েছে যে—ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন