ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘আসল কথাডা কেউ কইলেন না’

আজকে ইরান যুদ্ধে যখন একের পর এক আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে মিসাইল পড়ছে; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন তেল শোধনের প্ল্যান্টগুলো দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে; বিমানবন্দরগুলোতে যখন হলিউডের সিনেমার কায়দায় বিষ্ফোরণ ঘটতে দেখা যাচ্ছে; তখন সারাবিশ্বে জ্বালানি তেল–সংকট বিষয়ক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আবুধাবী, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের তেল কূপ কিংবা শোধনাগার ধ্বংস হলে কীভাবে পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়বে, কীভাবে বহু লোক চাকরি হারাবে, কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম গরিব মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে—এইসব নিয়ে চায়ের দোকান থেকে টক শো—সবখানে আলোচনা হচ্ছে।
তাদের সেসব আলোচনা দেখে সেই বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে কবিরাজের সংলাপ, ‘আসল কথাডা কেউ কইলেন না!’
বিজ্ঞাপনের ‘আসল কথাডা’ ছিল ‘দমের কথা’; আর আজকের বিবেচনায় ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে অনালোচিত অথচ সবচেয়ে ‘আসল কথাডা’ হলো ‘পানির কথা’।
আসল কথা হলো, আজকের আরব দুনিয়ায় মানুষ যে পানি খাচ্ছে, যে পানি দিয়ে ওজু–গোসল করছে, ঘর–গেরস্থালির ধোয়ামোছার কাজ করছে, কৃষিকাজ করছে, সে পানি আগেকার আমলের মতো কূপ কিংবা ওয়াদি বা মৌসুমি নদীর পানি না; তার প্রায় সবটাই সাগরের নোনা পানি।
মানে, সাগরের নোনা পানি তুলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ঢেলে সেই পানি থেকে নুন আলাদা করে মিঠা পানি বানানো হচ্ছে। সেই মিঠা পানি তাঁরা ব্যবহার করছে।
এই প্ল্যান্টগুলো যদি হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে রাতারাতি ‘কারবালা’ হয়ে যাবে, তা নিয়ে এখনও তেমন কোনো আলোচনা শোনা যাচ্ছে না।
তবে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এই আলোচনাটিই খুব শিগগির একেবারে সামনের সারির আলোচনা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
কারণ যুদ্ধের আগুন যতই পারস্য উপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে—এই অঞ্চলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো আসলে তেলক্ষেত্র নয়, সেটি আসলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট।