আন্তর্জাতিক

পলাতক আওয়ামী নেতারা কে কী করছেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ

Advertisements

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কেটে গেছে এক বছর। এই সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। ওইসব নেতাদের অনেকেই এখন কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় অবস্থান করছেন। সাধারণ মানুষের চোখ এড়াতে অধিকাংশ সময় বাসায় অবস্থান করছেন বাসার ভেতর।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এইসব নেতাদের বর্তমান সময় কাটানোর মাধ্যমগুলো। এতে বলা হয়, বাসায় থেকে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেন। কেউ কেউ সময় দিচ্ছেন শরীরচর্চায়, আবার কেউ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যস্ত। রান্নার কাজটিও মাঝে মাঝে নিজেরাই করতে হচ্ছে।

 

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে হটিয়ে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফন্দি-ফিকির করছেন তারা। পতিত সরকারের বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপি’র সঙ্গে কথা বলেছে ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতও আছেন। পলাতক ওই নেতা জানান, লক্ষ্য এখন একটাই বাংলাদেশ পুনরায় পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।

 

তিনি বলেন, আমার এখন ঘুমানোর সময় নেই। মাঝে মাঝে আমি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাই। প্রতিটা দিন আমার কাজ আর কাজ, শুধু কাজের মধ্যেই কেটে যাচ্ছে।

 

নির্বাসিত জীবনের রুটিন

কক্সবাজারের এক সাবেক এমপি জানান, নির্বাসিত জীবনের একঘেয়ে রুটিন গড়ে উঠেছে। ভোরে ফজরের নামাজের পর তিনি পাশের জিমে যান, আর তার সহবাসী পিলাটিস ক্লাসে অংশ নেন। এক হাজার ৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ভাড়া মাসে ৩০ হাজার রুপি। তবে অনিয়মিত গৃহকর্মীর কারণে রান্নার ঝামেলা হয়, যা ভিডিও কলে ঢাকায় থাকা স্ত্রীকে দেখে শিখতে হচ্ছে। এমপি হাসতে হাসতে বলেন, দেশে ফিরে হয়তো শেফ হয়ে যাব!

 

দুপুরের পর অনলাইনে আওয়ামী লীগের দেশি-বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। রাজনৈতিক খবরাখবর ভাগাভাগি করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাই এর উদ্দেশ্য।

 

ফজরের নামাজ, জিম সেশন বা সকালে হাঁটাহাঁটি করা, বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে প্রতি সন্ধ্যায় অনলাইন বৈঠক এবং ফিরে আসার আশা- এই চক্রেই কাটছে এসব নেতাদের জীবন।

 

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করে সময় কাটানো

ঢাকার এক তরুণ আওয়ামী লীগ এমপি নিউটাউনের ২বিএইচকে ফ্ল্যাটে একাই থাকা সময় কাজে লাগিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে পালানোর সময় আমার সামনের চুল পাতলা হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রী কয়েক বছর ধরেই বলছিলেন হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে। কিন্তু প্রথমবারের এমপি হওয়ায় এত ব্যস্ত ছিলাম যে ঢাকায় সময় পাইনি।

Advertisements

 

তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দিল্লির একটি হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারে নিজের নতুন লুক তৈরি করেছেন। মজার ছলে তিনি বলেন, এত কষ্টের সময়েও নতুন চুল পাওয়া এক ধরনের আনন্দের বিষয়।

 

গোপন অফিসের গুঞ্জন

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দাবি ওঠে, কলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি গোপন অফিস রয়েছে। তবে কক্সবাজারের ওই সাবেক এমপি বলেন, হ্যা, নিউটাউনে একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছে যেখানে আমরা মিলিত হই, তবে এটাকে অফিস বলা অতিরঞ্জন।

 

পলাতক দুই সহস্রাধিক নেতার মধ্যে ভারতে অবস্থান করছেন অন্তত এক হাজার ৩০০ নেতা। এই বৃহৎ অংশের- সবাই তো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ড্রয়িংরুমে মিলিত হওয়ার সুযোগ নেই। যার ফলে ওই স্পেসটি নেওয়া হয়েছে।

 

‘বিশ্রাম নিতে আসিনি, বাঁচতে এসেছি’

২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে হঠাৎ করে তোলপাড় শুরু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়ে- দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে কলকাতার বিখ্যাত বিনোদনকেন্দ্র নিক্কো পার্কে দেখা গেছে।

 

তিনি কীভাবে দেশ ছেড়েছেন তা কেউ জানেন না তখনও। তিনি কীভাবে দেশ থেকে অদৃশ্য হয়ে হঠাৎ কলকাতায় উপস্থিত হলেন ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেই ব্যাখ্যা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছিল। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী-সাংসদের মতো তার অবস্থানও ছিল রহস্যঘেরা।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব) শাহ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। কেউ যদি নিয়ম মেনে ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতেন, তার প্রমাণ থাকত। তাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রমাণ নেই। অনেকে অবৈধভাবে দেশ ছেড়েছেন, কেউ দেশে রয়ে গেছেন, আবার অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

নিউটাউনে বসবাসরত আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদ সদস্য জানান, তিনি প্রায়ই খানের সঙ্গে দেখা করেন। তার ভাষায়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে সেখানে একটি বড় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে থাকছেন এবং নিয়মিত দলের নেতা-কর্মীদের আতিথ্য দিচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে তিনি দিল্লি যান- দলীয় বৈঠক এবং ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় তার ছেলে সাফি মুদ্দাসসির খান জ্যোতি গ্রেপ্তার হন।

 

ওই সাবেক এমপির মতে, নির্বাসিত নেতাদের মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব পেয়েছেন খান। তিনি প্রতিদিন সহকর্মীদের মনে করিয়ে দেন- আমরা এখানে বিশ্রাম নিতে বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসিনি। আমরা বাঁচতে এসেছি, যাতে আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন