বিনোদন খবর

ধিক তোমার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট এবং আইডেন্টিটি কার্ডকে: সোহেল রানা

Advertisements

ঢালিউডের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি অভিনয় থেকে দূরে আছেন। তবে অভিনয়ে নাম লেখানোর আগেই রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলেন এ ড্যাশিং হিরো। পরে সিনেমায় নিয়মিত হলে রাজনীতিতে অনিয়মিত হয়ে পড়েন সোহেল রানা।

গুণী এই অভিনেতা মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় কিংবা মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে অনুতপ্ত। একই সঙ্গে তিনি বিরক্তিও প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোববার ( ২৭ জুলাই) এক পোস্টে এক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ছবি ‘ওরা ১১ জন’, প্রযোজক মাসুদ পারভেজ। ধিক তোমাকে, ধিক তোমার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট এবং মুক্তিযোদ্ধা আইডেন্টিটি কার্ডকে।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

এছাড়াও এদিন দেওয়া আরেকটি পোস্টে সোহেল রানা লিখেছেন, দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি কষ্ট করে টাকা জমা দেওয়ার জন্য। বসার জায়গা নেই। ২৫ জনের বসার জায়গা হলে, ১০০ জন রোগী দাঁড়িয়ে আছে। সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে বা স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন যোদ্ধা হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনোরকম দাম সম্মান কিছুই নেই। কেবিন ভাড়া যা ছিল, এক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট বা মুক্তিযোদ্ধা আইডেন্টিটি কার্ড কোন কাজে আসে, বুঝি না। কোনো অভিযোগ নেই, শুধু একটু দীর্ঘ নিঃশ্বাস!

তার পোস্ট দেখে বোঝাই যাচ্ছে, চিকিৎসা নিতে গিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা তিনি পাননি।হয়তো আরও অনেক ক্ষেত্রেই পান না। সেটা নিয়েই এই অভিনেতার ক্ষোভ ও অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রসঙ্গত, সোহেল রানা, যার আসল নাম মাসুদ পারভেজ। অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে তার আরেকটি বড় পরিচয়, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।

Advertisements

শিক্ষা জীবনে একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন মাসুদ পারভেজ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। তার জন্ম ঢাকাতে হলেও পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলায়।

শুরুতে প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন তিনি। ১৯৭২ সালে মাসুদ পারভেজ ফিল্মস নামে চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা গড়েন তিনি। অন্তত ৩০টি চলচ্চিত্র তিনি প্রযোজনা করেছেন এই ব্যানারে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর প্রযোজক ছিলেন তিনি। কিন্তু পরে নায়ক খ্যাতির আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় তার প্রযোজক পরিচয়টি।

সোহেল রানা নাম ধারণ করে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র ‘মাসুদ রানা’র একটি গল্প অবলম্বনে ১৯৭৪ সালে ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং একই সিনেমার মাধ্যমে তিনি মাসুদ পারভেজ নামে পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন।

‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’-এভাবে একের পর এক প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

লালু ভুলু (১৯৮৩), অজান্তে (১৯৯৬), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩) তিনটি চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন সোহেল রানা। ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আসরে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা-অভিনেতা।

১৯৯০ সালে ডা. জিনাত পারভেজকে বিয়ে করেন সোহেল রানা। তাদের একমাত্র ছেলে মাশরুর পারভেজ জীবরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন