শিক্ষা

জবিতে হামলার পর আহতের ‘অভিনয়’ একজনের, ছবি ভাইরাল

Advertisements

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) কার্যালয়ে হামলা ও সমিতি দখলকে কেন্দ্র করে মারামারির পর এক সাংবাদিকের আহত হওয়ার ‘অভিনয়’ করার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ওই সাংবাদিক মিজান উদ্দিন মাসুদ একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তিনি আগে ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে হামলা চালান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি ও আমাদের বার্তার প্রতিনিধি আসাদ, কালের কণ্ঠের জুনায়েদ শেখ, সমায়ের আলোর ইমন প্রমুখ আহত হয়েছেন। তাদের পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

পরে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মাহিন মিলনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় মিজান উদ্দিন মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা গেছে, বেডে শুয়ে থাকা ‘আহত’ মাহিন মিলনের ডান শিয়রে বসে তার হাত ধরে রেখেছেন মাসুদ। আরেকটি ছবিতে তাকে পাশের একটি বেডে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। অপর একটি ছবিতে দেখা গেছে, মাসুদ বেডে শুয়ে মোবাইল ব্যবহার করছেন।

নেটিজেনরা বলছেন, মিজান উদ্দিন মাসুদ আহত হননি। তাদের পক্ষের লোকজনের হামলায় অন্য সাংবাদিকদের আহত হওয়ার বিষয়টি হালকা করতেই আহত হওয়ার ‘অভিনয়’ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক মিজান উদ্দিন মাসুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি পায়ে আঘাত পেয়েছিলাম। পা মচকে গিয়ে লিগামেন্ট ওপরে উঠে গিয়েছিল। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় এবং আমার চেয়ে গুরুতর আহতদের উদ্ধারে ব্যস্ত থাকায় সেভাবে নিজের আঘাতের দিকে মনোযোগ পড়েনি। পরে মিলন ভাইকে বেডে শোয়ানোর পর বসতে গিয়ে হঠাৎ পা হ্যাং হয়ে যায়।

তিনি বলেন, পরে চিকিৎসকরা এসে ট্রিটমেন্ট করেছেন। এখন কিছুটা সুস্থ আছি। তবে পায়ে ব্যথা আছে। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি।

Advertisements

এদিকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর একই রকম বক্তব্য দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন মিজান মাসুদ। এতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি পায়ে ইনজুর ছিলাম, লিগামেন্ট ওপরে উঠে গেছে। হঠাৎ বসতে গিয়ে পা হ্যাং হয়ে যায়। এর পূর্বে মিলন ভাই যখন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছিল তখন আমি ওনাকে নিয়ে হাসপাতাল যাই। এই ফুটেজের সাথে আমার অসুস্থ হওয়ার ছবি (রোজা রাখায় শরীর প্রচণ্ড সিক হয়ে পড়ে, তীব্র পানির পিপাসা পায়) নিয়ে শিবির যেই ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছে, এটা নৈতিক ভিত্তিহীন। কাইন্ডলি এইসব নোংরাকাজ থেকে বিরত থাকুন। রমজান মাস। আল্লাহ আপনাদের হেদায়েত দান করুন।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও সমিতি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে হামলা চালান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী দলবলে গিয়ে সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে কালের কন্ঠ, যুগান্তর, বাংলাদেশের খবর, সময়ের আলোসহ জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জবিতে কর্মরত অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামসিল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ।

জানা যায়, জবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২ মার্চ। তফশিল অনুযায়ী আজ মনোনয়ন সংগ্রহ ও প্রত্যাহার এবং আগামী ৮ মাচ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই নির্বাচনের একক নেতৃত্ব নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাপ প্রদান করে ছাত্রদল। পরবর্তীতে ছাত্রদলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে আজ জোরপূর্বক সমিতি দখল করতে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, আজকে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্ম নেওয়ার দিন ছিল। গতকালকে রাত থেকে জানতে পারি ছাত্রদল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। আজ দুপুরে ছাত্রদল সুপার ফাইভ নিচে দাঁড়িয়ে থেকে এ হামলার নেতৃত্ব দেন।

হামলার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমরা কেউ সমিতির অফিসে যাইনি। জুনিয়র কেউ কেউ যেতে পারে। তবে হামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমরা কেউ হামলার সাথে জড়িত না।

ঘটনার বিষয়ে জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন