মহেশপুর জুড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা নাসির উদ্দিন: সমাজসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামের নাসির উদ্দিন আজ মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সীমিত আয়, শারীরিক কষ্ট ও জীবনের কঠিন সংগ্রাম সত্ত্বেও তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন অসহায় মানুষের কল্যাণে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত “মানবতার ফেরিওয়ালা নাসির উদ্দিন” নামে। এক বিঘা পেয়ারার বাগান, কিছু কলাগাছ ও কলাই চাষই তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
পাশাপাশি তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও বাংলাদেশ বিডিআর থেকে অবসরকালীন মাসিক তিন হাজার টাকা পান, যা তার একমাত্র স্থায়ী আয়। তবুও তিনি এই সামান্য আয় দিয়ে সমাজসেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দু’দুবার ব্রেন অপারেশন ও একবার ক্যান্সারের থেরাপি নেওয়ার পরও বর্তমানে ভারতের টাটা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সমাজের সেবায় তার মনোযোগ ও আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি। নিজের অর্থায়নে তিনি মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় টিউবওয়েলের চেকবল বিনামূল্যে সার্ভিস দিয়ে থাকেন।
এমনকি তিনি নিজেই ডাইস কিনে চেকবল তৈরি করে সারাদেশে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পাঠান, আর সেই সামান্য আয় ব্যয় করেন সমাজকল্যাণমূলক কাজে। স্থানীয়রা বলেন, “নাসির ভাই আমাদের সমাজের গর্ব। তিনি নিজের অসুস্থতা ভুলে মানুষের জন্য কাজ করেন, তার মতো মানুষই প্রকৃত মানবতার ফেরিওয়ালা।” নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নাসির উদ্দিন বলেন, “আমি চাই মানুষের উপকার করতে। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমার কষ্টগুলো ভুলে যাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন চিকিৎসা শেষে আরও বেশি করে মানবতার সেবায় কাজ করতে পারি।” তার এই অনন্য মানবিক উদ্যোগ ও আত্মত্যাগ আজ মহেশপুর জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নাসির উদ্দিন প্রমাণ করেছেন—মানবতার সেবা করতে ধনসম্পদের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন সৎ মন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির।