পুলিশের হামলার প্রতিবাদে হরিণাকুণ্ডুতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শিক্ষক কর্মচারী নেতারা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে হরিণাকুণ্ডু সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোক্তার আলী, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. আনিসুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আশরাফ আলী, গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভেজ ইমাম প্রমুখ।
এছাড়া শিক্ষক কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে এবং পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানান হরিণাকুণ্ডু আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোরশেদ শাহিন।
সচেতন মহল মন্তব্য করেছে, শিক্ষকতা জাতি গঠনের মহৎ পেশা হলেও দুঃখজনকভাবে এই পেশার মানুষরা আজও ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপির সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট (ঢাকা কেন্দ্রীয়) নেতা আবুল হাসান মাস্টার বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবিতে আমরা গত ৭ অক্টোবর ঢাকায় একটি কর্মসূচি পালন করেছি। সেখানে আমাদের নেতাদের প্রধান দাবি ছিল জাতীয়করণ। শিক্ষকদের দাবি নিয়ে যখন আন্দোলন চলছে, তখন পুলিশের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আরও জানান, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশ্বস্ত করেছেন— বিএনপি ক্ষমতায় এলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয়করণের আওতায় আসবেন।”
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল বারী বলেন, “শিক্ষকদের ওপর হামলা হলে তারা প্রতিবাদ করতেই পারেন। এব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তবে শিক্ষকরা যে দাবিগুলো তুলেছেন, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন।”