ঝিনাইদহ

একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, কলেজশিক্ষক বহিষ্কার

Advertisements

তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগে ঝিনাইদহে এক কলেজশিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম (৪৯)। তিনি সদর উপজেলার এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এক জরুরি সভা শেষে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম একাধিক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করার অভিযোগও রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও মেসেজ পাঠানোর ঘটনাটি এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জানাজানি হয়ে যায়। পরে কলেজের একাধিক ছাত্রী শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

Advertisements

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি নজরুল স্যারকে অনেক সম্মান করতাম। তিনি আমাদের শিক্ষক। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে নানাভাবে আপত্তিকর (অ্যাডাল্ট) মেসেজ দিতেন। রিপ্লাই না করলে, সরাসরি দেখা হলে তিনি আপত্তিকর কথা বলতেন। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি গুরুতর যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা তার শাস্তি চাই। তিনি শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলংকিত করেছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিয়ার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আমরা সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছি। গুরুতর অভিযোগ হওয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার মোবাইল ফোনটি হ্যাক হয়েছে। যে কারণে এরকম মেসেজ ছাত্রীদের কাছে চলে গিয়েছে। দীর্ঘ ৪/৫ মাস ধরে মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে থাকে কিভাবে, এমন প্রশ্ন করলে তিনি ফোনকল কেটে দেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। কলেজ অধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগের কপি ইউএনও অফিসে জমা দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়া মাত্রই আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকেও অবহিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন