ঝিনাইদহ সীমান্তে লেদ কারখানার আড়ালে হাতে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রের গোপন নেটওয়ার্ক!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহেশপুরের ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রাম মড়কধ্বজপুর, রায়পুর, কচুয়ারপোতা ও লেবুতলায় কয়েকটি বাড়িতে ছোট ছোট লেদ মেশিন বসানো হয়েছে। তবে সম্প্রতি এসব গ্রামের অন্তত ছয়টি বাড়ির মধ্যে লেদ কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে মাঝরাতে লেদ চালানোর শব্দ শোনা যায়।
অপরাধীদের কাছে দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় এসব অস্ত্রের চাহিদা রয়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘এগুলো আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য চরম আতঙ্কের বিষয়। একই সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের কারণ। প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলছে। সীমান্ত এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এখন হুমকির মুখে।’
অপরাধ বিশ্লেষক মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘লেদ কারখানাগুলো শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সীমান্তে যৌথ টহল, স্থানীয় সোর্স নেটওয়ার্ক সক্রিয়করণ এবং অস্ত্র তৈরির মূল রিংলিডারদের গ্রেপ্তার করা জরুরি। তা না হলে অল্প খরচে অস্ত্র তৈরি ও পাচারের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকট তৈরি করবে। শুধু অভিযানে এই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ চক্রটির শিকড় সীমান্তঘেঁষা বড় নেটওয়ার্কে। মাদক, ফেনসিডিল ও স্বর্ণ চোরাচালানকারী এসব নেটওয়ার্কের ভোগান্তি বাড়াতে এখন যুক্ত হয়েছে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা। সীমান্তের এই লুকানো অস্ত্র কারখানাগুলো এখন সময়ের বড় হুমকি। যত দ্রুত এগুলো চিহ্নিত ও বন্ধ করা হবে, তত দ্রুত নিরাপত্তা ফিরবে সীমান্ত জনপদে।’
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছি। তবে আমাদের এলাকায় অস্ত্র তৈরির তথ্য জানা নেই। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে ওইসব লেদ কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকার লেদ কারখানাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যে কারাখানাগুলোতে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জেলার সব লেদ কারখানার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি, এই সংকটের নিরসন ঘটবে।’