ঝিনাইদহে চাচির বটির কোপে ভাতিজার গোপনাঙ্গ কর্তন

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে কল্পনা খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূর বটির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন তার চাচাতো ভাতিজা ও শৈলকুপা উপজেলা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজল হোসেন (৩০)। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সজল হোসেন ওই গ্রামের মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত কল্পনা খাতুন স্থানীয় এক গার্মেন্টসকর্মী সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী। তাদের ১০ ও ৬ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কল্পনা খাতুন ও তার চাচাতো ভাতিজা সজলের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছরের নভেম্বর মাসে কল্পনার স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেন। এরপর কল্পনা খাতুন প্রেমিক সজলকে বিয়ের দাবি জানান। কিন্তু সজল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ থেকে শুরু করে থানায় পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত কল্পনা পুনরায় আগের স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন।
এদিকে, প্রায় ছয় মাস আগে সজল অন্যত্র বিয়ে করেন। তবে এর মধ্যেই তাদের মধ্যে পুনরায় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে সজল কল্পনার ঘরে প্রবেশ করলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে কল্পনা খাতুন বটি দিয়ে সজলের গোপনাঙ্গে কোপ দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সজল সেখান থেকে পালিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে কল্পনা খাতুনের দাবি, বিচ্ছেদের পর আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ ঘরে ঢুকে জোর করে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করছিল। নিজেকে রক্ষা করার জন্যই আমি বটি চালাই।
তার স্বামী সাজ্জাদ হোসেনও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। খবর পেয়ে সকালে বাড়ি এসেছি। আমার স্ত্রীকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করছিল সজল।
তবে আহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজল হোসেন বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমি ছয় মাস আগে বিয়ে করেছি। কিছু ব্যক্তিগত ছবি তার কাছে ছিল, এগুলো দিয়ে সে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। সংসারে অশান্তি লাগাতেই আমাকে ডেকে এনে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।