তিন দিনের লড়াই শেষে চিরনিদ্রায় মাইলস্টোনের ছাত্রী মায়া

ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল চুয়াডাঙ্গার মেয়ে মাহিয়া তাসনিম মায়া।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।
মাহিয়া তাসনিম মায়া(১৫) চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের মৃত ইঞ্জিনিয়ার আলী বিশ্বাসের মেয়ে। সে তার মা আফরোজা খাতুন বিউটি ও দুই বোনের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরে নিজেদের ফ্ল্যাটে বসবাস করতো এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালেই মায়া স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু সেই যাত্রা ছিল তার জীবনের শেষ স্কুল যাত্রা। দুপুরের দিকে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে স্কুল ক্যাম্পাসেই। মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায় স্কুল ভবনের একাংশ।
দুর্ঘটনার দিনই প্রাণ হারায় ২৩ জন, যাদের মধ্যে ২০ জনই শিশু শিক্ষার্থী। সেখানেই গুরুতর দগ্ধ হয় মাহিয়া তাসনিম মায়া। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ভর্তি করা হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তিন দিন ধরে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষে হার মানে ছোট্ট মায়া।
তার বড় বোন মিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মায়া তিন বোনের মধ্যে মেঝো। ও নিজেই স্কুল বাসে যাতায়াত করত। খুবই পরিশীলিত আর দায়িত্বশীল মেয়ে ছিল। দুর্ঘটনার পর ওর এক সিনিয়র আপু ফোন করে আমাদের জানায়, তখন থেকেই আমরা ছুটে যাই বার্ন ইউনিটে।
মায়ার মৃত্যু সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ঢাকা বার্ন ইউনিট থেকে মরদেহ নিয়ে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত মায়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মরদেহ নেয়া হবে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কোর্টপাড়ায়, দাদার বাড়িতে। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর নেয়া হবে মেহেরপুরের মুজিবনগরের আনন্দবাস ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের নানা বাড়িতে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ৮টায় জয়পুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে মাহিয়া তাসনিম মায়ার।