১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১২ জন শিক্ষক কর্মচারী

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মৈশানি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম। ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে বাস্তবে শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে মাত্র ৭ থেকে ১০ জন। অথচ কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয় ১৩০ জন। ভয়াবহ ফল বিপর্যয় এবং অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। দশম শ্রেণিতে মাত্র দুজন, নবমে একজন এবং অষ্টম শ্রেণিতে দুজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। অথচ হাজিরা খাতায় এমন অনেক ছাত্রীর নাম রয়েছে, যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। এমনকি তাদের কেউ কেউ আদৌ এই স্কুলের শিক্ষার্থী কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
বিদ্যালয়টির একাডেমিক ফলাফলও হতাশাজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই ছিল বিবাহিত।
অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার ও কেরানি আব্দুল জলিলের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মতান্ত্রিক পরিচালনার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল দশা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “প্রধান শিক্ষিকা নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় চালান। কেরানি আব্দুল জলিলের প্রভাব এতটাই যে, প্রধান শিক্ষিকাও তার কথার বাইরে যেতে পারেন না।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, “আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী আসলেই কম। তাই কাগজে-কলমে সংখ্যা বেশি দেখাতে হয়। কেরানি জলিলের বাড়ি কাছে, আমার দূরে। তাই তার কথাই মানতে হয়।”
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “বিদ্যালয়ের ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।”
পিরোজপুরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকলেও কীভাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়।