থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর, জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের আমারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল গৃধারীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান সারোয়ারে আলম।
গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি। তিনি ইতিপূর্বে পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের আমির এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি একজন অজ্ঞাতনামা আসামি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে। উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ থানায় যান। সেখানে একটি অমীমাংসিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার জন্য তিনি ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওসি এতে রাজি না হলে উপস্থিত যুবকরা ওসির ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। এসময় বাধা দিতে গেলে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হন।
এই হামলার ঘটনায় আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করে ২৬ মার্চ একটি মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জামায়াত নেতা পলাশ আহমেদকে। ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছিল, যিনি এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তৌহিদুল স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে।