সারাদেশ

‘সরকার বলছে তেল আছে, তাহলে পাম্পে নাই কেন’, গ্রাহকের ক্ষোভ

Advertisements

জ্বালানি তেলের অভাবে দিনাজপুরের অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকছে। কোনো কোনো ফিলিং স্টেশন চাহিদার কম, কিংবা রেশনিং পদ্ধতিতে তেল পাচ্ছে। তাতে চাহিদা না মেটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা।

কোথাও পাম্প খোলার খবর পেলেই গ্রাহকরা সেখানে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে সামান্য তেল। কেউ আবার পাচ্ছেন না। তাতে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

গ্রাহকরা বলছেন, ডিজেল নিয়ে সমস্যা না থাকলেও অকটেন ও পেট্রোল নিয়ে সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

দিনাজপুর সদর উপজেলার ফিলিং স্টেশগুলো ঘুরে বুধবার এই চিত্রই চোখে পড়েছে।

দিনাজপুর পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে এসে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনতে পেরেছেন মোটরসাইকেল চালক সুলতান মাহমুদ। তিনি ক্ষুব্ধ। বলছিলেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে অপেক্ষা করে দুপুর ১টায় তেল পেয়েছেন। তাও আবার সীমিত পরিমাণে। মাত্র ৫০০ টাকার।

“সরকার বলছে, পর্যাপ্ত তেল আছে এবং তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে ফিলিং স্টেশনগুলো কেন চাহিদামত তেল দিতে পারছে না। বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ কেন?”

Advertisements

সুলতান মাহমুদের মত অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রায় সব গ্রাহকের।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-এনজিও কর্মী কবির হোসেন বলেন, “সরকারের তেলের সমস্যা না থাকলে সব ফিলিং স্টেশনে কেন তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না? সব ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হত না।”

দিনাজপুর পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী লাবলু বলেন, “ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যার কারণে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ। মানুষ আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছে।”

তিনি বলেন, “যারা আগে ২০০-৩০০ টাকার তেল নিত তারা এখন ৫০০-৭০০ টাকার তেল কিনছে। বাইকে পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও অনেকে তেল নিচ্ছে। এতে করে তেলের উপর চাপ এবং চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। সব পাম্পে যদি তেল দিতে পারত তাহলে এই সমস্যার সৃষ্টি হত না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা পাম্প মালিক গ্রুপের সভাপতি শাহিন হোসেন বলেন, “জেলায় ৯২টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সদর উপজেলায় আছে ২৪টি। কিন্তু ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম এবং রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়ার কারণে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকছে। ফলে যেখানে তেল দেওয়া হচ্ছে সেখানে বাইকাররা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। শত শত বাইকের সিরিয়াল নিয়ে উত্তেজনাও সৃষ্টি হচ্ছে।

“ডিপো থেকে প্রতি ফিলিং স্টেশনে দুই থেকে তিন হাজার লিটার পেট্রোল/অকটেন বরাদ্দ দেওয়া হত। স্বাভাবিক সময়েও এভাবেই দেওয়া হয়েছে। যেটা আগে বিক্রি করতে পাঁচ-ছয় দিন সময় লাগত। এখন অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এক-দুই দিনেই তেল বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বন্ধ থাকছে পাম্প।”

এক্ষেত্রে অতিরিক্ত বরাদ্দের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন