ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। এই সম্ভাব্য অভিযানের আওতায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় অতর্কিত অভিযান (রেইড) চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার আওতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী স্পেশাল ফোর্স এবং সাধারণ পদাতিক বাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। এমন পদক্ষেপে মার্কিন সেনারা ইরানি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, স্থলভাগের গুলিবর্ষণ এবং উন্নত বিস্ফোরক দ্রব্যের (আইইডি) সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা অনুমোদন করবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ বা প্রেসিডেন্টকে সর্বোত্তম বিকল্প বা কর্মপরিকল্পনা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া পেন্টাগনের নিয়মিত কাজ। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে পদার্পণ করার সাথে সাথে মার্কিন মেরিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন থেকে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।শনিবার (২৮ মার্চ) সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএসএস ত্রিপোলি জাহাজে চড়ে আরও প্রায় ৩ হাজার ৫০০ অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে প্রশাসনের ভেতরে খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাব্যতা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন ক্ষেপনাস্ত্রগুলো খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
ইরানের সাথে ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান যখন এ বিষয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার খবর সামনে এল।
এদিকে আলোচনার মুখোশের আড়ালে ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। রবিবার (২৯ মার্চ) স্পিকার জানান,‘শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা পাঠাচ্ছে এবং গোপনে একটি স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু তারা এটা জানে না যে আমাদের বীর সেনারা স্থলভাগে মার্কিন সৈন্যদের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক দোসরদের চিরতরে শাস্তি দেওয়া যায়।’