ঝিনাইদহের কেন্দ্রীয় ঈদগা কমিটির অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত ঈদের প্রধান জামায়াত এবার চরম অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ঈদগাহ কমিটির স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্ব অবহেলার ফলে পৌর এলাকার আনুমানিক ৯-১০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসাথে ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বিগত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ৪ টি ঈদের জামায়াতে জাহেদী ফাউন্ডেশন অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল। প্রচন্ড বৃষ্টি, প্রতিকূল বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে ঈদগাহ মাঠকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করে মুসল্লিদের জন্য একটি আরামদায়ক ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করেছিল। তাদের উদ্যোগে ওয়াটারপ্রুফ ত্রিপল, ছামিয়ানা, ৫০০-এর অধিক বৈদ্যুতিক ফ্যান, সৌন্দর্য বর্ধনে ৩০০ টি ফুলের টব, মাঠজুড়ে ম্যাট ও লাল গালিচা, মুসল্লিদের মধ্যে সুগন্ধি আতর বিতরণ, জুতা সংরক্ষণের জন্য পলিথিন ব্যাগ এবং প্রায় ১০,০০০ বোতল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা এবং মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়—যা সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে জাহেদী ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা ঈদগাহ মাঠ পূর্বের ন্যায় সুসজ্জিতভাবে প্রস্তুতের জন্য ঈদগাহ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে দুঃখজনকভাবে, কমিটির পক্ষ থেকে বারবার সিদ্ধান্তহীনতা প্রদর্শন করা হয় এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অজুহাতে কার্যক্রম বিলম্বিত করা হয়। পরবর্তীতে কমিটির সভাপতি তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল মহোদয়ের নিকট লিখিত অনুমতির আবেদন করলে, তিনি আবেদন টি নাকচ করে দেন।
গত ২১/০৩/২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর সপ্তাহ খানেক আগে আবহাওয়া পূর্বাভাস এর মাধ্যমে জানানো হয় ঈদের দিন হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা থাকা সত্ত্বেও ঈদগাহ মাঠ যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। নামমাত্র কিছু বাঁশ ও সীমিত ছামিয়ানা ব্যবহার করে দায়সারা প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টির কারণে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি মাঠে অবস্থান করতে না পেরে ঈদের জামায়াত থেকে বঞ্চিত হন।
এছাড়াও, ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে কোনো পূর্বঘোষণা, মাইকিং বা দিকনির্দেশনা না থাকায় অনেকেই মাঠে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হন এবং হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে মাঠে কমিটির দায়িত্বশীল সদস্যদের কার্যত কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি, যা দায়িত্ব পালনে চরম উদাসীনতারই প্রমাণ বহন করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদগাহ কমিটির স্বেচ্ছাচারী মনোভাব, সমন্বয়ের অভাব, অদূরদর্শিতা এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্বের বছরগুলোতে জাহেদী ফাউন্ডেশনের আন্তরিকতা, সুপরিকল্পনা ও জনবান্ধব উদ্যোগ আজ আরও বেশি করে প্রশংসিত হচ্ছে এবং তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় এবারের দুর্ভোগ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঈদগাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অভিজ্ঞ ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।