সর্বশেষ

হাত দিয়ে টান দিতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং,

Advertisements

একটি সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে টেনে টেনে তুলে নিচ্ছেন তিনজন ব্যক্তি। অন্য একজন মুঠোফোনে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে সড়কটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায় এক বাসিন্দাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটি গত বৃহস্পতিবারর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার নাওঘাটা গ্রামে ধারণ করা। যে সড়ক থেকে কার্পেটিং তোলা হচ্ছিল, তা স্থানীয়ভাবে পদুয়া-নাওঘাটা সড়ক নামে পরিচিত। এটি দিয়ে উপজেলার নাওঘাটা,আঁধারমানিক, ধলিবিলা ও বাগমুয়া গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কার্পেটিং তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নাওঘাটা গ্রামেরই বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত মঙ্গলবার সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করেন ঠিকাদার। তবে দুই দিন যেতেই এর কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়সারাভাবে ঠিকাদার সড়কের সংস্কার কাজটি শেষ করেছেন। এ কারণে আগামী বর্ষায় এতে খানাখন্দ তৈরি হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে দুর্ভোগে পড়বেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা পথচারীরা।

লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সড়কটির এক হাজার ৫০ মিটার অংশ উন্নয়নের জন্য ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরপর দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে সড়কটির কার্যাদেশ পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স দিপু কান্তি পাল’। ২০২৪ সালের জুনে বিটুমিন ও পাথরের কার্পেটিং দিয়ে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে গত বছর সড়কটির একাধিক স্থানে কার্পেটিং উঠে যায়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, সড়কটির মোট বরাদ্দ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা জামানত হিসেবে রাখা হয়েছিল। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী সড়কের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার এক বছর পর ঠিকাদারকে ওই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে সড়কে কোথাও সংস্কার প্রয়োজন হলে তা ঠিকাদারকে করে দিতে হবে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে ঠিকাদার জামানতের ৯ লাখ টাকা ফেরত পেতে যেনতেনভাবে সড়কটির সংস্কার করেছেন।

Advertisements

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির ডেলিয়াপাড়া এলাকায় অন্তত ২০ ফুট কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে একটি ট্রাক ওই স্থানে ব্রেক করতেই কার্পেটিং উঠে যায়। এ কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলছেন।

পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালে সড়কটি প্রথমবার উন্নয়নকাজের সময়ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই উন্নয়ন এক বছরও স্থায়ী হয়নি। পুনরায় সংস্কারকাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি শর্ত মেনে সংস্কার করা হোক।

বিক্ষুব্ধ দুজন বাসিন্দা সড়কের কার্পেটিং তুলে নিচ্ছেন। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার নাওঘাটা গ্রামেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

প্রকল্পটির ঠিকাদার দিপু কান্তি পাল ছয় মাস আগে মারা গেছেন। এলজিইডি কার্যালয় এবং সড়ক সংস্কারে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানান, দিপু কান্তি পালের সহযোগী জাকারিয়া বাবুল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সড়কটি সংস্কার করেছেন। তবে জাকারিয়া বাবুলের কাছে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে লোহাগাড়া এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজটি করেছেন। কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করে আমাদের বুঝিয়ে না দিলে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন