রাজনীতি

প্রতিশ্রুতি নয়, ক্ষমতায় গেলে সব বাস্তবে রূপ দেব: তারেক রহমান

Advertisements

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

Advertisements
 
তারেক রহমান বলেন, ‘গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও তারা অনেকটা পিছিয়ে গেছে। দেশের তরুণদের জন্য যেভাবে কর্মসংস্থান তৈরির কথা ছিল, তা হয়নি। মা-বোন ও কৃষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সহযোগিতা করেনি বিগত স্বৈরাচার সরকার।’
 
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেকই নারী। তাদেরকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করতে পারলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আপনারা দেখেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আজ হাজারো নারী শিক্ষায় আলোকিত। আমরা এই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। এজন্য আমরা প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ পৌঁছে দিতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্র থেকে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে, যাতে তারা সহজে সংসার পরিচালনা করতে পারেন।’
  
কৃষকদের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের ‘‘কৃষি কার্ড’’ দিতে চাই। এর মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় সার-বীজ পাবেন। বাংলাদেশের মানুষ ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে সারা দেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়, জেলে, কৃষক ও শ্রমিকরা রেজিস্টারকৃত এনজিও থেকে যে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সেই ঋণ আমরা পরিশোধ করে দেব। যাতে সাধারণ মানুষ ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা পেতে পারে।’
 
ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা চাই এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হোক। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াব, ঠিক তেমনিভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প ও প্রজেক্ট এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।’
 
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর শীতে এই এলাকায় এসে দুস্থদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করেছি। গত এক যুগ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ১২ তারিখ সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবেন। আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’
 
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চা কারখানা এবং শিল্প করখানা চালু করতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজের দাবি বাস্তবায়নে চেষ্টা করব। হিমাগার তৈরি করা হবে। যুবকদের জন্য আইটি পার্ক বা হাব গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।’
 
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এক যুগ তারা (বিগত সরকার) নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, ফলে মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘‘হেলথ কেয়ারার’’ (স্বাস্থ্যকর্মী) নিযুক্ত করা হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, তরুণরা বেকার থাকবে না এবং সবাই চিকিৎসা পাবে।’
 
ধর্ম দিয়ে কোনো বিচার করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা দিয়ে বিচার করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশকে গড়তে হবে। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে তাদের দায়িত্ব হবে জনগণকে দেখে রাখা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন