মনপুরায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০

ভোলার মনপুরা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে দৌলতখান উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা, গণসংযোগে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে।
আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা বিএনপির এক সহসভাপতির বাড়ির পাশে জামায়াতের কর্মী–সমর্থকেরা গণসংযোগে গেলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা বাধা দেন। এ নিয়ে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ।
সংঘর্ষে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ দুই দলের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জামায়াতে ইসলামীর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন বাধা দেন এবং একপর্যায়ে হামলা চালান। এতে জামায়াতের অন্তত ছয় কর্মী আহত হন।
মনপুরা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আমিনুল এহসান জসিমউদ্দীন বলেন, তাঁদের তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মনপুরা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, ভোট চাওয়ার নামে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে বিএনপির পাঁচ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম ফরাজি বলেন, বিএনপির নেতা–কর্মীরা একটি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে জামায়াতের নেতারাও সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ
গতকাল বৃহস্পতিবার দৌলতখান উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা, প্রচারে বাধা ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল বিকেলে দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দৌলতখান উপজেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিনারা বেগম অভিযোগ করেন, দৌলতখান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ চলাকালে বিএনপির কর্মী রিপন ও সেলিমের নেতৃত্বে নারী কর্মীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল, হেনস্তা ও প্রচারের কাজে বাধা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এর আগেও দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর, উত্তর জয়নগর, সৈয়দপুর ও ভবানীপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, নারী হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, সব প্রার্থীর জন্য সমান ও নিরাপদ গণসংযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।