রাজনীতি

ভোট দিতে চান ৯২ শতাংশ ভোটার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৬৭%

Advertisements

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯১.৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে চান। তাদের মাঝে প্রথম ভোট দেওয়া তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চান। আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮.২ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মের বিষয়টি দেখবেন ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ)-এর ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শিরোনামে প্রকাশিত জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা সিআরএফ এবং বাংলাদেশ ইলেকশন এন্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) -এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপটির ফলাফল উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক এবং সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অরডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

জরিপটিতে স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার নিজের মতামত দেন।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

জরিপ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ৯১.৭ শতাংশ ভোটার ভোট দেবেন এবং ৮.৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি অথবা ভোটে অংশ নেবেন না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেওয়া তরুণ ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেয়ার বিষয়ে জানিয়েছে। এ ছাড়া ১৮.৬ শতাংশ অন্যান্য দলকে বা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন অংশগ্রহণকারীদের সেটি জানতে চায় সিআরএফ। আওয়ামী ভোটারদের সর্বোচ্চ ৪৮.২ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আওয়ামী ভোটারদের ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে, ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে এবং ৬.৫ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে চান।

Advertisements

এ ছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীরা কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন সেটি জানিতে চায় জরিপ সংস্থাটি। অংশগ্রহণকারীদের ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেন বলে জানিয়েছেন। তারা দুর্নীতি চান না। একইসঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কারা যোগ্য সে বিষয়ে বিবেচনা নিয়ে ভোট দেবেন ৬৩.৪ শতাংশ ভোটার। অপরদিকে উন্নয়ন বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন ৫৫.৪ শতাংশ ভোটার। চাকরির প্রতিশ্রুতি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়েও ভাবছেন ৫৩ শতাংশ ভোটার। এছাড়া নিরাপত্তা বিষয় ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ভাববেন যথাক্রমে ৫১ ও ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচনি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার মার্কা দেখে এবং ৩০ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দেয়ার কথাও জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং -এর অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক।

অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কারা যোগ্য সেটি ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করবেন ভোটাররা।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ফলাফল পর্যালোচনায় বোঝা যায় ভোটারদের মধ্যে শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে প্রবল মনোযোগ রয়েছে। অধিকাংশ ভোটারই ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, পরিচয়ভিত্তিক বা ধর্মীয় ইস্যুর তুলনায় দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ভোটাররা। সেই সঙ্গে এমন নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় পছন্দ দেখিয়েছেন -যারা মানুষের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন