ঝিনাইদহ আদালত প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—মেয়ের সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়লেন বাবা-মা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ ডিসি কোর্ট প্রাঙ্গণে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। কলেজছাত্রী অন্তি শর্মা প্রেমের টানে ধর্ম পরিবর্তন করে প্রেমিক রাকিব হোসেনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত জানানোর পর আদালতের রায়ে স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ঘোষণায় ভেঙে পড়েন তার বাবা-মা।
হরিণাকুণ্ডুর গোবিনাথপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র শর্মার একমাত্র মেয়ে অন্তি শর্মার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় মুসলিম যুবক রাকিবের। প্রেম ধীরে ধীরে বিয়েতে রূপ নেয়। গত ২ অক্টোবর স্থানীয় মসজিদে কালেমা পড়ে অন্তি ইসলাম গ্রহণ করে ‘হিরা খাতুন মালা’ নাম ধারণ করেন। পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
ঘটনা জানাজানি হলে পরিবার থানায় জিডি করে মেয়েকে ফেরানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে অভিভাবকের জিম্মায় রাখলেও স্বামী রাকিব আদালতের শরণাপন্ন হন।
শুনানির দিন আদালতকক্ষ জনাকীর্ণ ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট মালাকে প্রশ্ন করেন—
“তুমি বাবার কাছে ফিরবে, নাকি স্বামীর কাছে?”
নীরবতার পর মালা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন—
“আমি স্বামীর বাড়িতে যেতে চাই।”
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত প্রাঙ্গণে শোকের নীরবতা নেমে আসে। মেয়ের সিদ্ধান্তে বাবা গোপাল চন্দ্র শর্মা ভেঙে পড়ে দু’হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদে বলেন—
“হে ভগবান, ওদের পরিবার যেন ধ্বংস হয়ে যায়…।”
এই বেদনাবিধুর দৃশ্য উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। অন্যদিকে মালা স্বামীর হাত ধরে নির্বিকার ভঙ্গিতে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
আইন অনুযায়ী সাবালিকা মেয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কিন্তু আবেগের আদালতে রায় একেবারেই ভিন্ন—
সেদিন প্রেম জিতেছে, হেরে গেছে বাবা-মায়ের স্বপ্ন।