জামায়াত নেতার চাপে কারখানার ১২ কর্মীকে চাকরিচ্যুত’র অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মব সৃষ্টি করে একটি কারখানায় কর্মরত হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের ১২ জন সদস্যকে চাকরিচ্যুতের ঘটনা ঘটেছে। একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলা ও ভাঙচুরের হুমকির মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে চাকরিচ্যুতদের ওপর হামলার আশঙ্কায় স্থানীয়দের সহায়তায় তারা নিরাপদে কারখানা ত্যাগ করেন। বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী এলাকার কনফিডেন্ট শিপ এন্ড স্টিল বিল্ডার্স এ ঘটনা ঘটে।
চাকরিচ্যূতদের মধ্যে রয়েছেন- হেযবুত তওহীদের সদস্য মো. মান্নান, মো. মোতাহার, মো. মনজুর মোল্লা, মো. এনামুল, মো. মনির হোসেন, মো. জাকির, মো. আক্কাস।
অভিযুক্তরা জামায়াতের মুন্সীগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক হুসাইন আহমাদ ইসহাকের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, হেযবুত তওহীদের ১২ জন সদস্য বেশ কিছুদিন ধরে গজারিয়ার একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াত নেতা হুসাইন আহমাদ ইসহাকের ইন্ধনে স্থানীয় জামায়াত-হেফাজতের নেতৃত্বে একটি স্থানীয় গোষ্ঠী বেশ কিছুদিন ধরেই হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে আসছিল। বুধবার দুপুরে হঠাৎ করে কয়েকশ’ লোক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তারা কারখানা কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়ে জানায়, হেযবুত তওহীদের ওই ১২ জন কর্মীকে অবিলম্বে ছাঁটাই না করলে কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হবে।
এদিকে উগ্র-গোষ্ঠীর চাপের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে ১২ জন কর্মীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দেয় এবং তাদের চাকরিচ্যুত করে। তবে চাকরিচ্যুতির পরও কর্মীরা কারখানা থেকে বের হলে তাদের ওপর হামলা করা হবে -এই হুমকি দিয়ে বিক্ষোভকারীরা কারখানার বাইরে মিছিল করতে থাকে। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই ১২ জন কর্মীকে সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশি হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভুক্তভোগী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।