রাজনীতি

টেলিগ্রামেও আওয়ামী লীগ নেতাদের চাঁদাবাজি

Advertisements

আগামী ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে ভারত গমনের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে তার দল আওয়ামী লীগ একাধিক সংকটে পড়েছে। যার মধ্যে অন্যতম টেলিগ্রামে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছেন— দলটির একাধিক নেতার বরাতে এমন খবর প্রকাশ করেছে ‘নিউজ ১৮’।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, নেতাকর্মীদের টেলিগ্রাম গ্রুপে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীকে অনুপ্রবেশের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খুব একটা অবাক হননি। তারা এর চেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন টেলিগ্রামে ‘চাঁদাবাজির’ ঘটনায়। এসব ঘটনায় বিস্মিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহল।

বিজ্ঞাপন
Jhenada TV Logo
/JhenadaTV

সর্বশেষ আপডেট পেতে

🔴 সাবস্ক্রাইব করুন

আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, তাদের দলের সাবেক এমপি ও কিছু মন্ত্রী টেলিগ্রামে কোনো অনুষ্ঠান করতে গেলে মোটা অঙ্কের অর্থ চাওয়া হচ্ছে। নতুন নতুন অননুমোদিত টেলিগ্রাম গ্রুপ তৈরি হচ্ছে।

তারা বলছেন, এসব গ্রুপে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনীগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

টেলিগ্রাম গ্রুপে ‘অর্থ বাণিজ্য’

গত এক বছরে টেলিগ্রাম হয়ে উঠেছে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনার দলের মূল সংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। কিছু গ্রুপে সদস্যসংখ্যা ২০ থেকে ৩০ হাজারের বেশি। প্রতিদিন রাত ৯টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই ভার্চুয়াল আড্ডায় অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতা, বর্তমান-সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

তবে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিউজ ১৮-কে জানিয়েছে, এমনকি যখন শেখ হাসিনা নিজে কোনও টেলিগ্রাম সেশনে উপস্থিত থাকেন, তখনও কে তার সামনে কথা বলবে তা নির্ধারণে অর্থ লেনদেন হয়। এই বিষয়ে সন্দেহের কেন্দ্রে রয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের এখন নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবে টেলিগ্রামকে বেছে নিয়েছেন। প্রতিদিন একাধিক গ্রুপে নিজে কথা বলার সময়সূচি ঠিক করেন এবং প্রায়ই বলেন ‘ঢাকা ঘেরাও’ করার ডাক। তবে তার বক্তব্যে সময়সীমা বা বাস্তব পদক্ষেপের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব আছে বলেও অভিযোগ।

Advertisements

দলটির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজ ১৮-কে বলেন, ওবায়দুল কাদেরকে এখন কর্মীরা প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার জন্য টেলিগ্রামে অসংখ্য গ্রুপ তৈরি করেছেন। এগুলো দলের জন্য নয়, একটি অর্থনৈতিক প্রতারণা চালানোর জন্য। শীর্ষ নেতৃত্ব জানতে পেরেছে, তিনি দলের সিনিয়র নেতা, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, যাতে তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।

আওয়ামী লীগ কি ভিতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে?

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে এসব গ্রুপে ‘প্রো-ইউনুস’ (মুহাম্মদ ইউনুসের সমর্থক) ব্যক্তি এবং বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অনুপ্রবেশ। দলটি আগে বিএনপি ও জামায়াতপন্থিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে সতর্ক ছিল, কিন্তু এবার অভিযোগ উঠেছে, নোবেলজয়ী ইউনুসের প্রতি আনুগত্য থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এই গ্রুপে ঢুকে পড়েছেন।

সূত্র বলছে, এসব অনুপ্রবেশকারী টেলিগ্রামের আলোচনা রেকর্ড করে রাখেন এবং পরে তা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু গ্রুপের কথোপকথনের ভিত্তিতে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এই সন্দেহ প্রথম কোথা থেকে জাগে? দলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে কিছু অবমাননাকর মন্তব্য আসছিল। তবে যখন ধানমন্ডি ৩২ নামের একটি শীর্ষ গ্রুপেও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানানো হতে লাগল এবং ‘প্রতিরোধ গড়ে তোলার’ আলোচনা হতে থাকল, এরপরই দেখা গেল আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তখন আমরা বুঝলাম, বিষয়টি শুধু অভ্যন্তরীণ নয়।’

হাসিনার বার্তা: রাস্তা নামুন, না হয় সরে দাঁড়ান

নিউজ ১৮ জানতে পেরেছে, শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—রাস্তায় নামুন, নতুবা পদত্যাগ করুন। তিনি চান নতুন নেতৃত্ব, নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে দল মাঠে নামুক। তিনি শুধু ‘কিবোর্ড যোদ্ধা’তে ভরসা রাখতে নারাজ।

দলের সব টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীকে এখন ভিপিএন ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, গ্রুপের ডেটা কালোবাজার বা ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলে রিপোর্ট এসেছে।

দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, এক বছর হয়ে গেল। আওয়ামী লীগ এখন জনগণের পক্ষে লড়তে চায়। সেজন্যই প্রতিটি জেলা ও মহানগরে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি যৌথভাবে বিভাগীয় সংগঠক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে।

আগামী বছর বাংলাদেশে নির্বাচন। এখনও দলটি নিষিদ্ধ। তবে এবার তাদের লক্ষ্য পরবর্তী ধাপে প্রবেশ—মাঠের রাজনীতিতে ইউনুস সরকারের মুখোমুখি হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সব তথ্য এক ক্লিকে – আপনার জানার একমাত্র ঠিকানা!

দেশ-বিদেশের আপডেট, দরকারি তথ্য, সরকারি-বেসরকারি সেবা, প্রযুক্তির খবর কিংবা লাইফস্টাইল — এক জায়গায়, এক ক্লিকে!

এখনই ভিজিট করুন