রংপুরে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা-লুট, দুই দিনেও শনাক্ত হয়নি কেউ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার ছুতোয় হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় এখনও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, পুলিশ হামলার বিষয়ে আগে থেকে জানলেও তা ঠেকাতে পারনি। এই ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো মামলা হয়নি, নেই কোনো আটক বা গ্রেপ্তার নেই।
শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত দফায় দফায় হামলার পর মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সরেজমিন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্বেও মানুষজনের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আলদাদপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এখনও দৃশ্যমান হামলার ক্ষতচিহ্ন। ভাঙা দরজা, টিনের চাল, গুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক বাড়ি। বাসিন্দাদের মনে এখনও আতঙ্ক, আবারও হামলা হতে পারে। তাই ভাঙচুর, লুটের পর যার যতোটুকু সম্বল রয়েছে তা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। আবার শনিবার রাতের তাণ্ডবে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া অনেকেই ফিরে এসে লেগে পড়েছেন ঘরদুয়ার মেরামতে। প্রশাসনের ভাষ্য, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। এখন আর ওমন হবে না।
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এরই মধ্যে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও তদন্ত চলছে। তবে এঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেনি।
কারা হামলা করেছে, তাদের শনাক্ত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি সাংবাদিকদের বলেন, পাশের উপজেলার (নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা) লোকজন এসে হামলা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে আমরা তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। যারা দায়ি, তাদেরই মামলার আসামি করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর মেরামত কাজ শুরু করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। আক্রান্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপিসহ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। আর হিন্দু নেতারা বলছেন এই ঘটনার যারাই দোষী তাদের বিচার চান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন সন্ধ্যায় পাশের এলাকা থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ছেলেটির গ্রামে প্রবেশ করে। তারা বাড়িঘরে হামলা চালায়। শনিবার রাত ও রোববার বিকালে ওই কিশোরের বাড়িসহ হিন্দুদের বাড়িগুলোতে ভাঙচুর চালায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ ঘটনার পর সোমবার আতঙ্কে লোকজন বাড়ি ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার থেকে তাদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। তবে ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
